দিবর দিঘী

নওগাঁ জেলা পত্নীতলা উপজেলার দিবর ইউনিয়নের নওগাঁ-সাপাহার এর উত্তর পার্শ্বে ২কি:মি: দূরে অবস্থিত।

পত্নীতলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা (দিবর দিঘী ও দিবর দিঘীতে অবস্থিত দিব্যক জয়স্থম্ভ রয়েছে। নওগাঁ জেলার একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন পত্নীতলা উপজেলা দিবর দিঘীর মধ্যে স্থানে অবস্থিত দিব্যক জয়স্থম্ভ । এ দিঘী স্থানিয় জনগনের কাছে কর্মকারের জলাশয়ের নামে পরিচিত।দিঘীটির জলাশয়ের আয়তন প্রায় ৬০ বিঘা জমির উপরে অবস্থিত।দিবর দিঘীর মধ্যখানি অবস্থিত  আটকোণ বিশিষ্ট গ্রানাইট পাথরের এতবড় সত্মম্ভ বাংলাদেশে বিরল।এই সত্মম্ভের উচ্চতা ৩১ ফুট আট ইঞ্চি।পরিদর্শনের সময়ে মাপ অনুযায়ী পানি নিচের অংশ ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি এবং পানির উপরের অংশ ২৫ ফুট ৫ ইঞ্চি।এর ব্যাস ১০ ফুট ৪ ইঞ্চি ;প্রতিটি কোণের পরিধি ১ ফুট ৩.৫ ইঞ্চি।এই সত্মম্ভের কোন লিপি নেই। সত্মম্ভের উপরিভাগ খাঁজ কাটা অলঙ্করণ দ্বারা সুশোভিত ।

দিবর দীঘির মধ্যস্থিত জয়স্তম্ভ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য সম্পর্কে ৩টি পৃথক মত পাওয়া যায়:

1 . দ্বিতীয় মহিপাল কে পরাজিত ও হত্যা করার সাফল্য কে স্মরণীয় করে রাখতে দিব্যক এ জয় স্তম্ভ নির্মাণ করেন। দীনেশ চন্দ্র সেন “বৃহতৎ বঙ্গ” গ্রন্থে লিখেছেন – “কৈবর্তরাজ ভীমের খুল্ল পিতামহ দিব্বোক দ্বিতীয় মহিপাল কে যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত করিয়া বিজয়োল্লাসে যে স্তম্ভ উথ্থাপিত করিয়াছিলেন তাহা এখনও রাজশাহী জেলার এক দীঘির উপরে মস্তক উত্তোলন করিয়া বিদ্যমান”। উল্লেখ্য পূর্বে নওগাঁ রাজশাহী জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

 2. দিব্যকের রাজত্ব কালে পাল যুবরাজ রামপাল বরেন্দ্র উদ্ধারের চেষ্টা করে দিব্যক এর নিকট পরাজিত হন। দিব্যক এই সাফল্যের স্মৃতি রক্ষার উদ্দেশ্যে দীঘি মধ্যস্থিত এ স্তম্ভ নির্মাণ করেন।সন্ধ্যাকর নন্দীর রামচরিতের পরিচিতি পর্বে অনুবাদক বিজয় স্তম্ভ নির্মাণের করন সম্পর্কে নিম্নলিখিত বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন : “পূর্ববঙ্গের ভোজ বর্মার তাম্রশাসন হইতে জানা যায় দিব্যের বীরত্ব খ্যাতি তৎকালে উপমার বিষয় ছিল। অত্যল্পকালই বরেন্দ্রী দিব্যের রক্ষণাধীন থাকে। পূর্বোদ্ধৃত মনহলি লিপির ১৪শ শ্লোক ও রামচিরতের ১/২৯ শ্লোক একত্রে পাঠ করিলে জানা যায় দিব্যের রাজত্বকালে রামপাল (১০৮২ – ১১২৪) একবার পিতৃরাজ্য উদ্ধারে সচেষ্ট হইয়া ব্যর্থকাম হন। দিনাজপুর জেলার ( বর্তমানে নওগাঁ) দিবর দীঘি নামক জলাশয় ও তন্মধ্যস্থিত শিলাস্তম্ভ আজিও তাহার স্মৃতি রক্ষা করিতেছে”।

 

 

3.  ভীম এ স্তম্ভটি নির্মাণ করেন এবং পিতৃব্য স্মৃতি রক্ষার্থে স্তম্ভটি তাঁর নামে উৎসর্গ করেন। অধ্যাপক শিরিন আখতারের বিবরনে তার সমর্থন পাওয়া যায়। যে উদ্দেশ্যেই এ স্তম্ভটি নির্মিত হোক না কেন, এই দিবর দীঘি নামক জলাশয় ও তন্মধ্যস্থিত শিলাস্তম্ভটি দিব্যকের স্মৃতি অম্লান করে রেখেছে।

কি ভাবে যাওয়া যায়

নওগাঁ বাস স্ট্যান্ড থকে সাপাহার গামী যে কোন বাসে করেই যাওয়া যাবে ।ভাড়া ৮০ থেকে ৯০ টাকা।